আপনার মন্তব্য উৎসাহ ও প্রেরণার সহায়ক !

আপনার মন্তব্য উৎসাহ ও প্রেরণার সহায়ক !

বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০১১

টেস্টিং সল্ট স্নায়ুবিষ

খাবার মুখরোচক বা মজাদার করার কাজে স্বাদ লবণ বা টেস্টিং সল্ট নামের একটি রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। এটি ব্যাপক পরিমাণে ব্যবহার করলে স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। বিজ্ঞানীরা একে স্নায়ুবিষ বলে থাকেন।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা নতুন একটি অসুখ আবিষ্কার করেছে। এর নাম চাইনিজ রেস্টুরেন্ট সিনড্রোম। অসুখে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাবারে অরুচি হয়, তাদের মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা কমে যায়। গভীর মনোযোগের কাজ করতে গেলে স্নায়ুর ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। টেস্টিং সল্ট খেয়ে স্নায়ুর ক্ষতি হচ্ছে। তাই গভীর মনোযোগের কাজ করা আর স্নায়ুর পক্ষে সম্ভব হয় না। অন্যদিকে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মেজাজ খিটমিটে হয়ে যায়। তার ঘুম কম হয়।
যারা ঘন ঘন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে খেতে যায় তাদের মধ্যে এ অসুখের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এর জন্য দায়ী সোডিয়াম গ্লুকোমেট বা মনোসোডিয়াম গ্লুকোমেট নামের রাসায়নিক উপাদান, যা চাইনিজ রান্নায় প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। তবে এর ব্যবহার কেবল চাইনিজ খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং আজকাল ফাস্ট ফুডের দোকানগুলোতে প্রচুর পরিমাণ টেস্টিং সল্ট ব্যবহৃত হচ্ছে।
কোনো খাবারে টেস্টিং সল্ট আছে কিনা তা খাবার মুখে দিয়েই বোঝা সম্ভব। কোনো খাবারে ঝাঁঝালো নোনা স্বাদ পাওয়া গেলে বুঝতে হবে তাতে টেস্টিং সল্ট আছে। আজকাল বাজারে যেসব কথিত পটেটো চিপস বিক্রি হয় তাতে মাত্রাতিরিক্ত টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হয়। ব্যবহৃত হয় চিকেন ফ্রাই থেকে শুরু করে নানা খাদ্যে।
এভাবে খাদ্যদ্রব্যে বিশেষ করে বাজারে যেসব খাবার বিক্রি হয় তাতে টেস্টিং সল্ট ব্যবহারে প্রচুর লাভবান হচ্ছে দোকানদার বা বিক্রেতারা। এসবের মধ্যে অনেক খাবার শিশু-কিশোরদের কাছে খুবই লোভনীয়। তারা সুযোগ পেলেই এসব খাবার খায়। ফলে তাদের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিয়মিত টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হলে বমিভাব, মাথাব্যথা, অনিন্দ্রা, খাবারে অরুচি, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, দেহের অংশবিশেষের কাঁপুনি, বুকে চাপ অনুভব করা, কোনো কারণ ছাড়া দুর্বল লাগা, হাতের তালু বা পায়ের তালুতে জ্বালা অনুভব করা, গলায় একইভাবে জ্বালা অনুভব করার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হলো শেষ পর্যন্ত পার্কিনসন্স বা আলঝেইমারের মতো মারাত্মক অসুখ হতে পারে। এসব মারাত্মক অসুখের কোনো ভালো ওষুধ আজও বের হয়নি।
টেস্টিং সল্টের ব্যাপক ব্যবহারের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রথমেই যেসব খাবারে এজাতীয় রাসায়নিক উপাদান ব্যবহৃত হয় তার ব্যবহার সীমিত করতে হবে। অর্থাত্ কেনা খাবারের ব্যবহার কমাতে হবে। তবে সীমিত মাত্রায় খাদ্যে টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু সেটাও হতে হবে অনিয়মিত। সীমিত মাত্রায় নিয়মিত যদি টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হয় তবে তাতেও ক্ষতি হবে। টেস্টিং সল্ট ব্যবহার বন্ধ করে দিলে জমে থাকা এই স্নায়ুবিষ শরীর ধীরে ধীরে বের করে দেয়ার সুযোগ পায়। তাই যারা এখনও সোডিয়াম গ্লুকোমেট বা মনোসোডিয়াম গ্লুকোমেট ব্যবহার করছেন তারা এর ব্যবহার আজ থেকেই বন্ধ করে দিন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন