আপনার মন্তব্য উৎসাহ ও প্রেরণার সহায়ক !

আপনার মন্তব্য উৎসাহ ও প্রেরণার সহায়ক !

শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১০

সমুদ্রের স্বাদ,সল্টজে

টাটকা সুস্বাদু সামুদ্রিক মাছ খেতে মন চাইলে ঢাকায় বসে কি আর তা মেটানো সম্ভব? আবার মুখে বললেই কি আর সমুদ্রে চলে যাওয়া যায়? তা হয়তো যায় না, তবে ঢাকায় বসেই কিন্তু কক্সবাজারের টাটকা মাছের স্বাদটা চেখে নেওয়ার একটা ভালো সুযোগ রয়েছে। গুলশান-২-এর গুলশান নর্থ এভিনিউতে রয়েছে সামুদ্রিক খাবারের রেস্তোরাঁ ‘সল্টজ’। কক্সবাজার থেকে সরাসরি মাছ এনে তৈরি হয় এখানকার খাবারগুলো। সামুদ্রিক মাছ আনা হয় বিদেশ থেকেও। সব মিলিয়ে মেন্যুতে রয়েছে প্রায় ২৩০টি পদ।
রেস্তোরাঁটা দোতলায়। দুটো ভাগ রয়েছে এখানে। সবাই অবশ্য কাচের দেয়ালের ওপারে খোলা বারান্দায় বসতেই আগ্রহী। সেখানে কাঠের মেঝেতে একটু সজোরে পা ফেললেই মচমচ আওয়াজ ওঠে। সুনীল সমুদ্রের ছোঁয়া দিতে দেয়ালে দেয়ালে নীল রঙের ছড়াছড়ি। হাতে আঁকা গাঙচিলের ছবি দেখলে মনে হয়, এই বুঝি উড়াল দিল। সিঁড়ির গোড়া থেকে ছাদ পর্যন্ত সাজানো হয়েছে মাছ ধরার জাল আর মাছ ধরার ছোট ছোট নৌকার রেপ্লিকা দিয়ে।
খেয়ে অভ্যস্ত হয়ে না থাকলে মেন্যু ঘেঁটে নাম আর উপাদান দেখে মোটেও বোঝার উপায় নেই কোনটা কী জিনিস। রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বেছে দিলেন সেরা কয়েকটা পদ। শেষের পদটা যোগ করতে করতে বললেন, ‘লবস্টারের আইটেমগুলো আমাদের বিশেষত্ব। ভালো লবস্টার খেতে চাইলে এখানে আসতেই হবে।’
স্যুপ আছে কয়েক পদের। তার মধ্যে টম ইয়াম কুং নিতে পারেন। টক স্বাদের এ স্যুপটা তৈরি হয় থাই কায়দায় চিংড়ি আর মাশরুম দিয়ে। আরেকটু ভিন্ন স্বাদ পেতে চাইলে নিতে পারেন প্রন বিস্কো স্যুপ।
মূল ডিশের জন্য অপেক্ষা করতে করতে স্টার্টার হিসেবে যদি ‘সি ফুড টেরিয়াকি’ নেন, তাহলে কিন্তু বেশ জমবে খাওয়াটা। টেরিয়াকি সসের সঙ্গে থাকে ভাজা চিংড়ি আর সুস্বাদু ক্যাটল ফিশ। সেই সঙ্গে থাকে ক্যাপসিকাম, পেঁয়াজ আর নানা সবজির একটা দারুণ মিশেল। একটু শুকনো শুকনো হলেও এ পদটা বেশ মুখরোচক। টক-মিষ্টি স্বাদটা অনেকক্ষণ লেগে থাকে মুখে। এর সঙ্গে নিতে পারেন ফ্রায়েড ক্যালামারি। এটাও বিশেষ এক ধরনের সামুদ্রিক মাছ দিয়ে তৈরি সুস্বাদু একটা পদ। বেশ মচমচে করে ভাজা হয় মাছের চিকন ফালিগুলো। অথচ ভেতরটা থাকে রসাল।
মূল ডিশে মাছের কোফতা অবশ্যই রাখা চাই। রাইতার যোগে একটা ফিশ কোফতা হয় সল্টজে। এর স্বাদ অসাধারণ। কয়েক রকম মাছের কিমা মসলা মিশিয়ে হালকা আঁচে ভাজা হয়, সঙ্গে থাকে খানিকটা ভাত ভাজা, টমেটো, পেঁয়াজ ও ক্যাপসিকাম। তবে অন্য সবকিছু বাদ দিয়ে হলেও এখানকার লবস্টারটা খাওয়া চাই-ই চাই। হাতের পাঞ্জার প্রায় দুই গুণ লম্বা চিংড়ি মেলে এখানে। গ্রিল করে কিংবা সেদ্ধ, যেমন চান তেমনই পাবেন। দামের তুলনায় পরিমাণটা একটু কম ঠেকতে পারে। কারণ, এ চিংড়ির কেবল ভেতরের অংশটুকুই খাওয়া যায়, খোলশুদ্ধ নয়। সঙ্গে অবশ্য নানা রকম সবজি সেদ্ধ আর গার্লিক ব্রেড থাকে। তাই পেটটা শেষতক ভরেই যায়। চাইলে দেশি চিরচেনা ভেটকি কিংবা বিদেশি রেড স্ন্যাপারও নিতে পারেন। অত বড় গোটা মাছ দেখলেও শান্তি লাগে।
অবশ্য সামুদ্রিক মাছে যদি আপত্তি থাকে, তাহলে অন্য ব্যবস্থাও আছে। মানে, মুরগি কিংবা গরুর মাংসের পদও পাওয়া যায় এখানে। চাইকি নিরামিষও মিলবে, তবে এসব পদ কিন্তু সংখ্যায় সীমিত। কেননা সামুদ্রিক খাবারটাই সল্টজের প্রধান আকর্ষণ। সামুদ্রিক মাছে কোনো ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নেই। তার ওপর সল্টজের রান্নার কায়দাকানুন এত ভালো যে তাতে বাড়তি তেল-মসলার অভিযোগ করার সুযোগই পাবেন না। তাই বাইরে গিয়ে যদি স্বাস্থ্যকর কিছু খেতে মন চায়, তবে সল্টজের সামুদ্রিক খাবারটাই হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন