আপনার মন্তব্য উৎসাহ ও প্রেরণার সহায়ক !

আপনার মন্তব্য উৎসাহ ও প্রেরণার সহায়ক !

রবিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০১১

ঢাকাই পিঠার রেসিপি

ঢাকাই পিঠার নানা পদ রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি পিঠা হচ্ছে—খাজুর পিঠা, আন্ডাপোয়া ও উষ্ণগুজা। ঢাকাই পিঠার স্বাদ যাঁরা নিতে চান, তাঁদের জন্য এই তিনটি পিঠা তৈরির প্রণালি সংগ্রহ করা হয়েছে।

খাজুর পিঠা

প্রথমে চালের গুঁড়া হালকা করে ভেজে নিতে হবে। এতে চালের প্রকৃত গন্ধ ফুটে উঠবে। এবার তাতে সামান্য পানি দিয়ে খামির করে নিতে হবে। খামির হয়ে গেলে তাতে পরিমাণমতো গুড়, নারকেল কুচি, কালোজিরার দানা আর সামান্য লবণ দিতে হবে। উপাদানগুলো ভালোমতো চটকে নিতে হবে। একটি বেলন পিঁড়িতে চটকানো মণ্ড এলিয়ে লম্বা লম্বা আকড়া (বেলনাকৃতি) বানাতে হবে। এটিকে আড়াআড়িভাবে কেটে টুকরো বের করে নিতে হবে। কাটা টুকরোগুলোয় তিল মাখিয়ে ডুবো তেলে ভেজে নিলেই হলো। ঢাকাই অনেক পরিবারে মণ্ড তৈরির সময়ই তিল দেওয়া হয়। আবার অনেকে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে শেষে তিল মেখে ভেজে পরিবেশন করেন।

আন্ডাপোয়া বা ডিম পিঠা
আন্ডাপোয়া পিঠা ঢাকাই পরিবারগুলোর পছন্দের একটি পদ। চালের গুঁড়ায় সামান্য পানি দিয়ে ঘন গোলা বানাতে হবে। এবার প্রতি কেজি গোলায় ১২টি ডিম ভেঙে দিতে হবে। ডিম মেশানো গোলায় আদা, রসুন, পেঁয়াজ, ধনেপাতা কুচি, পুদিনাপাতা কুচি, মরিচ কুচি আর সামান্য লবণ দিয়ে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মেশানো হলে তাতে সামান্য ময়দা বা আটার গুঁড়া মিশিয়ে দিতে হবে। ঢাকাই পরিবারগুলোয় নিখুঁত পিঠা তৈরির প্রচলন হিসেবে চালের গুঁড়ার সঙ্গে সামান্য ময়দা বা আটা দেওয়া হয়। না হলে পিঠা ভেঙে যায়। আবার বাড়তি ময়দা বা আটার গুঁড়া আন্ডাপোয়া পিঠার বাইরের আবরণকে মচমচে করে তোলে। এর পর ডুবা তেলে ভাজতে হবে।

উষ্ণগুজা বা কুলি পিঠা

উষ্ণগুজা বানাতে হলে প্রথমে হাঁড়িতে গরম পানি চাপাতে হবে। হাঁড়ির ওপরের দিকে পাতলা কাপড় দিয়ে বেঁধে ঢাকনা দিয়ে রাখতে হবে। এবার পানি ফুটে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে। চালের গুঁড়ার সঙ্গে সামান্য গরম দুধ দিয়ে তা ভালোমতো মথতে হবে। মথা হয়ে গেলে হাতের তালুতে পরিমাণমতো চালের মণ্ড নিয়ে টোপা (খোল) বানাতে হবে; অনেকটা মাটি দিয়ে ছোট ছোট হাঁড়ি-পাতিল বানানোর মতো। টোপা তৈরি হয়ে গেলে এর ভেতর নারকেল-গুড়, এলাচ, দারচিনি দিয়ে বানানো পুর ভরে দিতে হবে। পুর ভরা হয়ে গেলে টোপার খোলা দিকটি হাতের আঙুলের ভাঁজে ভাঁজে মুড়ে দিতে হবে। মোড়া হয়ে গেলে গরম হতে দেওয়া পাত্রের ঢাকনা খুলে পাতলা কাপড়ের ওপরে দিতে হবে ভাপ লাগানোর জন্য। ভাপে নরম হয়ে এলে নামিয়ে ফেলতে হবে। আবার বাইরের আবরণে দেওয়া যায় নানা ফুল আর লতাপাতার নকশা। এখন উষ্ণগুজা বানাতে ঢাকাই পরিবারগুলো ব্যবহার করে প্লাস্টিকের ছাঁচ। ফলে সময় আর শ্রম দুটোই বাঁচে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন