আপনার মন্তব্য উৎসাহ ও প্রেরণার সহায়ক !

আপনার মন্তব্য উৎসাহ ও প্রেরণার সহায়ক !

মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১০

বেগুনের ঝুরি

একটা রেসিপি দিলাম বেগুনের ঝুরি।খুব সহজ সবাই ট্রাই করে দেখতে পারেন............

উপকরনঃ গোল বড় বেগুন ১টা, ডিম ১টা, পেয়াজ কুচি ৩/৪ টা, কাঁচা মরিচ কুচি৩/৪ টা
বড় টমেটো ১টা, লবন, তেল, ধনেপাতা।

প্রনালীঃ বেগুন আগে পুড়ে নিতে হবে। তারপর বেগুনের খোসা ছাড়িয়ে ছেনে নিন।
কড়াইয়ে পরিমান মত তেল দিয়ে তার মধ্যে পেয়াজ কুচি, টমেটো কুচি, বেগুন
পরমান মত লবন দিয়ে কিছুক্ষন নাড়াচাড়া করুন। তারপর ডিম দিয়ে নাড়ুন।
নামানোর আগে কাচামরিচ ও ধনেপাতা কুচি দিয়ে আরেকটু নাড়ুন। নামানোর আগে
একটু চেখে দেখুন লবন ঠিকমত হয়েছে কিনা। নামিয়ে গরম গরম পরবেশন করুন।
রুটি , ভাত , পোলাউয়ের সাথে খেতে পারেন। । খুব সহজ ...সবাই ট্রাই করে দেখতে পারেন............

শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১০

কয়েকটি টিপস

কয়েকটি টিপস



۞ পেঁয়াজ কাটার আগে দুফালি করে কিছু সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখলে চোখে যন্ত্রণা দেবে না এবং চোখে পানি গড়াবে না।

۞ কাঁচের গ্লাসে গরম কিছু নিতে গেলে ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গরম কিছু ঢালার আগে চামচ রাখলে গ্লাস সহজে ফাটে না।

۞ ফ্রিজে একটি পাতিলেবু টুকরো করে কেটে রেখে দিন। ভেতরের যাবতীয় গন্ধ লেবু শুষে নেবে, ফ্রিজ থাকবে পরিষ্কার।

۞ কোনো কারণে বেশি খাওয়া হয়ে গেলে অন্তত আধঘন্টা ধরে এক গ্লাস গরম পানি একটু একটু করে খাবেন। এতে হজম হয়ে যাবে।

۞ প্রেসার কুকার ছাড়া তাড়াতাড়ি মাংস সেদ্ধ করার সহজ উপায় কয়েক ফোঁটা পেঁপের আঠা বা কয়েক টুকরো কাঁচা পেঁপে অথবা একটা গোটা সুপারি দিয়ে মাংস রান্না করা।

۞ হাতে মাছের আঁশটে গন্ধ দূর করতে হাতে সরষের তেল মেখে নিলে গন্ধ থাকে না।

ভারকারী

মজার রেসিপি(ভারকারী)

নামকরনঃ- এই খাবারটি ভাত এবং তরকারিকে ক্লোন করে তৈরী করা । তাই এর নাম ভারকারী, এটি ব্যাচেলরদের একা খাওয়ার ক্ষেত্রে বেশী উপকারী ।
উপকরনঃ-
১। এক পোয়া ভাতের চাল।
২। ১০০ গ্রাম চিংড়ি ।
৩। ১০০ গ্রাম আলু ।
৪। ১০০ গ্রাম পুইশাক/বেগুন/ ।
৫। এক কাটা চামচ হলুদ(অবশ্যই কাটা চামচ)।
৬। পরিমান মতো তেল, লবন, কাচামরিচ, পেয়াছ।
৭। ঢাকনা আর চামচ সহ একটি কড়াই । এবং জ্বালানী ব্যবস্থা সহ চুলা একটি ।
প্রস্তুত প্রণালীঃ প্রথমে চাল ধুয়ে কড়াইয়ে পরিমানমতো পানি দিয়ে রেখে দিন ,সংগে চিংড়ি গুলোও দিয়ে রাখুন ।এবার একে একে আলু ও পুইশাক কুচিকুচি করে কেটে কড়াইতে দিতে থাকুন ,এরপর হলুদ,মরিচ,তেল,লবন দিয়ে চামচ দিয়ে নাড়া দিয়ে চুলায় চড়িয়ে কিছুক্ষণ জ্বাল দিন। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখবেন প্রত্যাশিত ভারকারী রান্না হয়ে গেছে।
গুনাগুন ও উপকারীতাঃ এই খাবারটি অত্যন্ত পুস্টিকর ।এই খাবার তৈরীতে সময় ও অর্থ দুইই কম লাগে,তাই স্বাস্থ্য ঠিক রেখে অর্থ সাশ্রয় করবে।
যাদের জন্য প্রযোয্যঃ এই খাবারটি কম/বেশী সবার জন্যই প্রযোয্য ,তবে বিশেষভাবে যারা আমার মতো ব্যাচেলর থাকেন,সময় কম এবং বাইরের বুয়াদের রান্না খেতে পারেননা তাদের জন্য বেশী কাজে আসবে। খাবারটি আমি প্রায়ই খাই। বিশেষ করে সপ্তাহ এবং মাসের শেষে যখন কাজের চাপ বেশী থাকে। সকল ব্যচেলর ছেলে/মেয়েদের প্রতি শুভ কামনা রইলো।

চিংড়ি মাশালা

 চিংড়ি মাশালা



আজকের  রাননা  চিংড়ি মাছ ভুনা। প্রথমে পেয়াজ বড় বড় করে কেটে ফ্রাই প্যেনের মধ্যে দিন। তার আগে তেল তো অবশ্যই দিবেন।  তারপর পেয়াজ নরম এবং লালচে আকার ধারন না করা পর্যন্ত ভাজতে থাকবেন। তারপর ১ টেবিল চামচ আদা এবং ১ টেবিল চামচ রসুন বাটা দিবেন। লবন দিবেন পরিমান মত। কেচাপ দিবেন পরিমান মত। তারপর ৩/৪ মিনিট নাড়বেন। অল্প হলুদ এবং মরিচের গুড়া দিবেন। তারপর আবারো নাড়বেন ২ মিনিট। তারপর চিংড়ি মাছ গুলো ঢেলে দিবেন। কিছুক্ষন নাড়বেন। তারপর পরিমান মত টমেটো আর কাচা মরিচ কেটে দিয়ে দিবেন। এভাবে ৫মিনিট ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখবেন। ৫মিনিট পর চুলা থেকে নামিয়ে সুন্দরভাবে পরিবেশন করুন।

মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১০

ঝুরি মাংসের কিমা


ঈদুল আজহার পরের বেশ কয়েকটি দিন ঢাকাই পরিবারগুলোয় খাবার টেবিলে থাকে কোরবানির মাংস। তিন বেলায় মাংসের নানা পদ খাওয়ায় অভ্যস্ত ঢাকার বাসিন্দাদের কাছে এটা তেমন ব্যাপারই না। সকালবেলা গরুর পায়ের হাড়ের ‘পায়েচা’ আর নানরুটি। দুপুর বেলা কোফতা কালিয়া আর কোরমা। ঐতিহ্যের পালে হাওয়া লাগিয়ে বিকেলের হালকা নাশতায়ও আসে ‘ভারী’ মাংসের নানা পদ। তখন চলে ‘ঝুরি কিমা’ আর নিমসুকা বাখরখানি।

ঝুরি কিমার আয়োজন

কিছুদিন আগেও মাংসের ঢাকাই এই পদটি বেশ কায়দা-কসরত করে বানাতে হতো। হাতে কলের চাকা ঘুরিয়ে কলে বানানো হতো ঝুরি কিমা। আবার কেউ কসাইয়ের কাছে মাংস নিয়ে যায়। সেই মাংসকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে কিমা করা হয়। এভাবে কিমা বানাতে কসাইয়ের সময় আর দাম বুঝে গুনতে হতো কড়কড়ে বেশ কিছু নোট। এখন সময় পাল্টেছে। দেশে নানা পদের মাংসের কিমা বানানোর যন্ত্র পাওয়া যায়। ফলে ঝুরি কিমা বানানো সহজ হয়ে গেছে।
কোরবানির এই সময়টায় পুরান ঢাকায় মাংস কিমা করার দোকান গজিয়ে উঠেছে।মৌসুমি এসব দোকানে ঈদের দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত মাংস কিমা করার ব্যবস্থা থাকে। কাঁচা মাংসের কিমা বানাতে হলে কেজিপ্রতি গুনতে হবে ১৫ থেকে ২০ টাকা। তবে এসব মেশিনে কিমা বানাতে হলে মানতে হবে কিছু নিয়ম। কিমা বানাতে হলে হাড়, চর্বি আর পাতলা পর্দা ছাড়া নিরেট মাংস আনা উচিত। হাড় বা পাতলা পর্দা থাকলে মেশিনে দেওয়ার আগে দোকানদার কেটে ফেলে দেবেন ঠিকই। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক করে আনলে কাজটা সহজ হয়।
আবার অনেকে মেশিনে আট-দশ কেজি কিমা বানিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন। পরে সময়মতো রান্না করে খান। তাই কিমা করার মাংস ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিয়ে আসা উচিত। চর্বি কেটেকুটে বাদ দেওয়া না হলে সংরক্ষণ করা মাংসের কিমা নষ্ট হয়ে যাবে।

রান্নাবান্নার পর্ব

ঝুরি কিমা বানাতে মাংস ‘ঝুরি’ করাটাই ঝামেলার ব্যাপার। রান্নার পর্বটি বেশ সহজ।  ঝুরি করে আনার পরে কিমার ভেতরে থাকা রক্ত ঘণ্টা খানেক সময় নিয়ে ঝরিয়ে নেওয়া দরকার। এরপর ঝুরি করা মাংসে লবণ, দারচিনি-বাটা, আদাবাটা, হলুদগুঁড়া আর সামান্য মরিচগুঁড়া মেখে নিতে হবে। এ সময় সামান্য লেবুর রস দেওয়া যেতে পারে। কড়াইয়ে সামান্য ঘি নিয়ে তাতে দু-তিনটি তেজপাতা আর পেঁয়াজকুচি ভাজতে হবে। পেঁয়াজ হালকা বাদামি রঙের হয়ে এলে তাতে মসলা মাখানো মাংস দিয়ে দিতে হবে। এবার তাতে সামান্য পানি দিয়ে নাড়তে হবে। পানি শুকিয়ে এলে কাঁচামরিচ ফালি করে কেটে দিতে হবে। আর শেষে সামান্য লেবুর রস দিয়ে নেড়ে নামিয়ে ফেলতে হবে।

পরিবেশন পর্ব
ঝুরি কিমা ঢাকাই পরিবারগুলোতে সাদা ভাত, পোলাও কিংবা বাখরখানি রুটির সঙ্গে খাওয়া হয়। এ ছাড়া শিঙাড়া, পুরি কিংবা আলুর চপে পুর হিসেবে দেওয়া হয়।
ঝুরি কিমার আরেকটি পদ
ঝুরি কিমা রান্না হয়ে গেলে সেটি দিয়ে মাংসের পরোটা বানানো যায়। ময়দার খামিরের ভেতরে রান্না করা কিমা, পেঁয়াজকুচি আর ধনেপাতা দিয়ে তাওয়ায় ভেজে নিলেই পাওয়া যাবে কিমার পরোটা। সালাদ, ধনেপাতা আর টক স্বাদের চাটনি দিয়ে কিমার পরোটা পরিবেশন করা হয়।

বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১০

চট্টগ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী রান্না : কুমড়ো পাতায় মোড়ানো নুনা ইলিশ


'নুনা ইলিশ' মানে ইলিশ সুটকি। আমরা ছোট বেলায় দেখতাম চক বাজারে বিক্রয়ের জন্য নিয়ে আসা রুপালী ইলিশের অবিক্রিত মাছগুলো লবনের মধ্যে (একটা বর্গাকৃতিরে চৌবাচ্চায় প্রথমে এক পরল লবন, তার উপর ইলিশ মাছ তারপর লবন আবার ইলিশ মাছ- এভাবে করে) রেখে দিত একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। একসময় রুপালী ইলিশগুলি ব্রাউন কালার হয়ে তৈলাক্ত শুটকি হয়ে যেত। জানিনা আরো কোন পদ্ধতি আছে কি না। এ হচ্ছে আমার দেখা 'নুনা ইলিশ' তৈরীর পদ্ধতি।

ছোট বেলায় এই কুমড়ো পাতায় মোড়ানো নুনা ইলিশ ছিল খুবই প্রিয়। কি ভাবে যেন ক্রমান্বয়ে শুটকি আমার নিকট অসহ্য লাগা শুরু হলো এবং শুটকি খাওয়া এক প্রকার ছেড়েই দিয়েছিলাম। বাজারথেকে শুটকি আনতে বললে নানা অযুহাতে তা এড়িয়ে যাই। তার পরও ঘর ওয়ালী কিন্তু বসে থাকে না, সে কোন না কোন উপায়ে শুটকি জোগাড় করবেই।

সেদিন দেখলাম সে কুমড়ো পাতায় মোড়ানো নুনা ইলিশ তৈরী করছে। আমি খুব নিকট থেকে দেখতে থাকলাম এবং ছোটবেলার স্মৃতি, বিশেষ করে দাদীর হাতের তৈরী এ জিনিষটির কথা মনে পড়ছিল বার বার। রান্নার পর একটু খেয়ে দেখতে গিয়ে ভাতের সাথে এক টুকরা খেয়েই ফেললাম এবং বেশ মজা লাগছিল। রান্না করা নুনা ইলিশের ফ্লেভারে চতুর্দিক মৌ মৌ করতেছিল।

উপকরণ :
১। কুমড়ো পাতা ১০ পিস।
২। নুনা ইলিশ ৫ টুকরা। (২৫০)গ্রাম।
৩। পেঁয়াজ কিউব করে কাটা ১ কাপ।
৪। পেঁয়াজ বাটা ১ টে. চামচ।
৫। রসুন বাটা ১ চা. চমচ।
৬। আদা বাটা আধা চা চামচ।
৭। লাল মরিচ ১ চা চামচ।
৮। হলুদ ১ চা চামচের ১ চতুর্থাংশ।
৯। কাঁচা মরিচ ৭/৮টি ফালি করা।
১০। লবন পরিমান মতো
১০। সরিষার তেল ৩ টে. চামচ

পদ্ধতি :
বড় সাইজের কচি কুমড়ো পাতাগুলো ভাল করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। নুনা ইলিশের টুকরাগুলো ভাল করে ধুয়ে কাঁচি দিয়ে ছোট ছোট করে কেটে একটি বাটিতে রাখুন। এর উপর পেঁয়াজ টুকরা, পেঁয়াজ বাটা, রসুন বাটা, আদা বাটা, লাল মরিচ, হলুদ, কাঁচা মরিচ, লবন এবং এক টে. চামচ সরিষার তেল দিয়ে হালকা ভাবে মেখে নিন। এই মিশ্রনগুলো ৫ ভাগ করে একেক ভাগ একেক জোড়া কুমড়ো পাতার উপর রেখে বর্গকৃতি করে ভাঁজ করুন। খুলে না যাওয়ার জন্য অব্যবহৃত টুথপিক দিয়ে গেঁথে দিন অথবা সুতা দিয়ে বেঁধে দিন। অতপর একটি ফ্রাই পেনে ২ টে. চামচ সরিষার তেল ঢেলে ছড়িয়ে দিন এবং কুমড়ো পাতা সহ মিশ্রন গুলো তেলের উপর দিয়ে অল্প আঁচে উনুনে বসিয়ে ঢেকে দিন। ২/৩ মিনিট পর পর উল্টিয়ে দিন। এভাবে ১২ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে তৈরী হয়ে যাবে দেখতে সবুজ রঙের 'কুমড়ো পাতায় মোড়ানো নুনা ইলিশ'।

শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০১০

কেকের জন্য ফুল বানানো


বিশেষ কোন পদ্ধতি না। লাগবে Rolled Fondant নামে এক বস্তু; বানানো ঝামেলার। বাজারে পাওয়া যায় readymade rolled icing হিসেবে; সেটা ব্যবহার করলেও চলবে। ছবিতে দেখানো ধাপগুলো অনুসরণ করলেই হবে।
http://www.realbakingwithrose.com/2007/10/nushera_s_rose.html
 
কেক সাজাতে rolled fondant (লিংকটাতে ক্লিক করো) নামের এক বস্তু ব্যবহার করা হয়। এটা নরম ময়দার তালের মতো একটা জিনিস; গলানো মার্শম্যালো (কর্ন/গ্লুকোজ সিরাপ, জেলাটিন, চিনি), ডালডা এসব মিশিয়ে অনেক ঝামেলা করে বানাতে হয়। নইলে রেডিমেইড কিনতেও পাওয়া যায়। রুটির মতো বেলে কেক ঢাকা যায় অথবা বিভিন্নরকম ডেকোরেশন তৈরি করা যায়। ছবিতে অবশ্য আমি লাল-হলুদ রঙের play-dough ব্যবহার করেছি।